বাচ্চাদের টিকার ব্যথা ও জ্বর থেকে বাঁচার উপায় কী

বাচ্চাদের টিকার ব্যথা ও জ্বর থেকে বাঁচার উপায় কী? আমরা অনেকে এটি খুজে থাকি। যেহেতু বাচ্চারা অনেক ছোট এবং তারা তাদের সমস্যার কথা বলতে পারে না তাই বাচ্চাদের টিকার ব্যথা ও জ্বর থেকে বাঁচার উপায় কী? একজন পিতা-মাতা হিসেবে অবশ্যই এগুলো জানা উচিত। আজকের এই আর্টিকেলে বাচ্চাদের টিকার ব্যথা ও জ্বর থেকে বাঁচার উপায় কী? সে সম্পর্কে জানাবো।

তাহলে চলুন দেরি না করে ঝটপট বাচ্চাদের টিকার ব্যথা ও জ্বর থেকে বাঁচার উপায় কী? বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক। উক্ত বিষয়টি জানতে হলে আপনাকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।

সূচিপত্রঃ বাচ্চাদের টিকার ব্যথা ও জ্বর থেকে বাঁচার উপায় কী

বাচ্চাদের টিকার ব্যথা ও জ্বর থেকে বাঁচার উপায় কীঃ ভূমিকা

মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে শিশুদের শরীরে বেশ কিছু মারাত্মক রোগের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে না। শিশুদের এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পর পর টিকা প্রদান করা হয়। বিভিন্ন সংক্রামক মরণ রোগকে নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মূল করার ক্ষেত্রে টিকা অন্যতম হাতিয়ার। টিকা দেওয়ার পরে অনেক সময় বাচ্চাদের জ্বর আসতে পারে।

আরো পড়ুনঃ পেটের মেদ বাড়ার ১০ কারণ - অতিরিক্ত পেটের মেদ বাড়লে কি করবেন

সাধারণত এটি বাচ্চাদের টিকা দেওয়ার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং প্রধান। তাই বাচ্চাদের টিকার ব্যথা ও জ্বর থেকে বাঁচার উপায় কী? এছাড়া টিকা দেওয়ার পর বাচ্চার জ্বর উঠলে কি করবেন? এ সম্পর্কে একজন সতর্ক পিতা-মাতা হিসেবে আপনাকে অবশ্যই জেনে থাকতে হবে। আজকের এই আর্টিকেলে এই বিষয়গুলো নিয়ে আপনাদের সতর্ক করব।

টিকা দেওয়ার পর বাচ্চার জ্বর উঠলে কি করবেন?

বাচ্চাদের টিকা দেওয়ার পরে প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে অন্যতম হলো জ্বর। অনেক সময় বাচ্চাদের টিকা দেওয়ার পরে ব্যথার কারণে জ্বর আসতে পারে। একজন সচেতন পিতা-মাতা হিসেবে আপনার বাচ্চার টিকা দেওয়ার পর বাচ্চার জ্বর উঠলে কি করবেন? এই সম্পর্কে অবশ্যই জেনে রাখতে হবে।

১। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টিকা দেওয়ার পর শিশুদের জ্বর আসতে পারে এই সময় ভয়ের কোন কারণ নেই। সাধারণত যদি জ্বর এর মাত্রা বেশি হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

২। টিকা দেওয়ার পর শিশুদের অল্প জ্বর আসতে পারে এ সময় বাচ্চাকে বেশি জামা কাপড় পরিয়ে রাখবেন না। যত হালকা সম্ভব বাচ্চাকে জামা কাপড় পরিয়ে রাখতে হবে।

৩। হালকা গরম পানি দিয়ে শিশুর শরীর মুছে দিবেন এবং একটু বেশি পানি বা তরল খাবার খাওয়াতে হবে। নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে ঘনঘন বুকের দুধ ও ফর্মুলা খাওয়াবেন।

৪। অবশ্যই যে কোন ওষুধ খাওয়ানোর আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিতে হবে। এমনকি প্যারাসিটামল খাওয়ার আগেও ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তারপরে খাওয়াতে হবে।

৫। শিশুদের কখনো এস্পিরিন ওষুধ খাওয়াবেন না এতে করে বিভিন্ন রকমের মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৬। টিকা দেওয়ার পরে যদি শিশুর জ্বর না আসে তাহলে অনেকে মনে করে থাকে টিকার কাজ হয়নি এমনটা নয় অনেকের ক্ষেত্রে জ্বর নাও আসতে পারে।

বাচ্চাদের টিকার ব্যথা এবং জ্বর থেকে বাঁচার উপায়

টিকা দেওয়ার কারণে যদি বাচ্চাদের জ্বর অথবা অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যথা হয় তাহলে অবশ্যই পিতা-মাতা হিসেবে আমাদের বেশ কিছু দায়িত্ব রয়েছে। বাচ্চাদের টিকার ব্যথা ও জ্বর থেকে বাঁচার উপায় কী? এ সম্পর্কে আমাদের জেনে রাখতে হবে। যেহেতু বাচ্চারা অনেক ছোট তাই তারা সাধারণত বলতে পারবে না তাদের কি সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যাগুলো বুঝে বাচ্চাদের টিকার ব্যথা ও জ্বর থেকে বাঁচার উপায় কী? তা জেনে বাচ্চাদের এই সমস্যা থেকে মুক্ত করতে হবে।

  • বাচ্চাদের আদর করা
  • ঘন ঘন খাওয়ানো
  • তাদের সাথে সময় কাটানো
  • হাত পা নাড়াচাড়া করানো
  • প্যারাসিটামল ড্রপ অথবা ট্যাবলেট
  • খেলনা কিনে দিন

বাচ্চাদের আদর করা - শিশুরা তাদের পিতা-মাতার কাছে থাকলে কম কান্নাকাটি করে বিশেষ করে মায়ের কাছে থাকতে। টিকা দেওয়ার সময় অবশ্যই শিশুদের কাছে রাখতে হবে। টিকা দেওয়ার পরেও শিশুদের ছেড়ে বাবা-মা দূরে কোথাও যাবে না তাদের কাছে থেকে বাচ্চাদের আদর করতে হবে। বাচ্চাদের বুকে জড়িয়ে ধরে রাখতে হবে।

আরো পড়ুনঃ শুকনো কাশি থেকে মুক্তির ১৫টি ঘরোয়া উপায়

ঘন ঘন খাওয়ানো - টিকা দেওয়ার পর শিশুদের ঘন ঘন খাওয়াতে হবে। শিশু যদি খাওয়া শিখে যায় তাহলে অবশ্যই শিশুর পছন্দ করে এমন খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে। বিশেষ করে মায়ের বুকের দুধ শিশুদের খাওয়ানো উচিত।

তাদের সাথে সময় কাটানো - এই অবস্থায় বাচ্চাদের বেশি সময় দিতে হবে। বিশেষ করে তাদের সাথে সময় কাটাতে হবে। যদি আপনি বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা করেন এবং তাদের সাথে মজা করে সময় কাটান তাহলে তারা টিকা দেওয়ার ব্যথা অনেকটাই ভুলে থাকবে।

হাত পা নাড়াচাড়া করানো - শিশুদের যে হাতে অথবা পায়ে টিচার দেওয়া হয়েছে সাধারণত সেই হাত এবং পা টি নাড়াচাড়া করুন। এতে করে ব্যথা বাড়বে না সাধারণত যেন ব্যথা স্থায়ী না হয়ে যায় তার জন্য এমনটা করা।

প্যারাসিটামল ড্রপ অথবা ট্যাবলেট - আমরা জানি যে বাচ্চাদের টিকা দেওয়ার পর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে যার প্রকাশ পায়। এই জ্বর কমানোর জন্য এবং ব্যথা কমানোর জন্য আমরা প্যারাসিটামল ড্রপ অথবা ট্যাবলেট খাওয়াতে পারি। এটি খাওয়ানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেওয়া উচিত।

খেলনা কিনে দিন - সকল বাচ্চারা খেলনা পছন্দ করে। বাচ্চাদের খেলনা দিলে সাধারণত তারা ভুলে যায় অনেক কিছু। যদি বাচ্চার টিকা দেওয়ার ব্যথা এবং জ্বর কমাতে চান তাহলে অবশ্যই বাচ্চাদের না কিনে দিন। খেলনা পেলে তারা তাদের জ্বরের এবং ব্যথার কথা ভুলে যাবে। আশা করি বাচ্চাদের টিকার ব্যথা ও জ্বর থেকে বাঁচার উপায় কী? তা জানতে পেরেছেন।

বাচ্চাদের টিকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

টিকা দেওয়ার পরে বাচ্চাদের বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যেহেতু বাচ্চারা মুখে বলতে পারেনা তাদের সমস্যার কথা তাই পিতা মাতার উচিত তাদের বাচ্চার সমস্যা গুলো বুঝে এরপরে নিজে থেকে এর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। ইতিমধ্যেই বাচ্চাদের টিকার ব্যথা ও জ্বর থেকে বাঁচার উপায় কী? সে উপায় গুলো বিস্তারিত জানা হয়েছে।

  • বাচ্চাদের টিকা দেওয়ার পরে প্রথম এবং প্রধান পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলো বাচ্চাদের জ্বর হওয়া।
  • টিকা দেওয়ার পরে সাধারণত বাচ্চাদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
  • টিকা দেওয়ার স্থানটা হালকা ফুলে যেতে পারে।
  • বাচ্চারা যে হাতে অথবা পায়ের টিকা দিয়েছে সে দিক ঘুরে ঘুমাতে পারে না।
  • সাধারণত কম পরিলক্ষিত হয় বমি বমি ভাব।
  • এছাড়া অনেক বাচ্চা আছে যারা সঠিকভাবে খেতে চায় না।
  • টাকা দেওয়ার পরে বাচ্চাদের অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব দেখা যায়।

আমাদের শেষ কথাঃ বাচ্চাদের টিকার ব্যথা ও জ্বর থেকে বাঁচার উপায় কী

প্রিয় পাঠকগণ আজকের এই আর্টিকেলে বাচ্চাদের টিকার ব্যথা ও জ্বর থেকে বাঁচার উপায় কী? টিকা দেওয়ার পর বাচ্চার জ্বর উঠলে কি করবেন? এবং বাচ্চাদের টিকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। একজন সতর্ক পিতা-মাতা হিসেবে আমাদের অবশ্যই উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরী।

আরো পড়ুনঃঅনলাইন থেকে আয় করার সবচেয়ে সহজ ৪০ টি উপায়

আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে আশা করি উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। যদি না পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ে বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নিন। ২০৭৯১

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url